বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ, তদন্তে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড

রাইজিং স্পোর্টস

Rising Cumilla - England Cricket Board to investigate allegations of alcohol consumption against cricketers
ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ, তদন্তে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড / ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া সফরে চরম ব্যর্থতার পর একের পর এক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ সিরিজ হাতছাড়া করেছে বেন স্টোকসের দল। প্রথম তিন টেস্টেই বাজেভাবে হেরে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সিরিজ ধরে রাখার লড়াই থেকেও ছিটকে যায় ইংলিশরা।

এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ। অ্যাশেজ চলাকালে বিরতির সময় কিছু খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে ওঠা প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে কুইন্সল্যান্ড উপকূলের সমুদ্রতীরবর্তী শহর নুসায় চার রাত কাটিয়েছিল ইংল্যান্ড দল। বিবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে এবং এর আগেও ব্রিসবেনে—যেখানে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়—দলের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘ সময় ধরে মদ্যপান করছিলেন।

যদিও তৃতীয় টেস্টে অ্যাডিলেডে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত পারফরম্যান্স দেখায় ইংল্যান্ড, তবু ম্যাচটি জিততে পারেনি তারা। এর ফলে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে অ্যাশেজ ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি এ প্রসঙ্গে বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, “শিরোনাম অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হয়। কোথাও বলা হচ্ছে এটা নাকি স্ট্যাগ ডু ছিল। যদি ছয় দিন ধরে টানা মদ্যপানের গল্প সত্যি হয়, তাহলে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আসল ঘটনা কী, আর কোনটা বাড়িয়ে বলা হয়েছে—সেটাই আমরা খতিয়ে দেখব।”

নুসায় এই বিরতির পরিকল্পনা অ্যাশেজ শুরুর আগেই করা হয়েছিল। প্রথম দুই টেস্টে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরও সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়নি। পুরো স্কোয়াডই নুসায় থাকলেও রব কি তখন কুইন্সল্যান্ডের অন্য একটি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ক্রিকেটারদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে গণমাধ্যমের নজর থাকবে।

টেলিভিশন ক্যামেরা ও আলোকচিত্রীদের তোলা ছবিতে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কের একটি বারের বাইরে বসে কয়েকজন ইংলিশ ক্রিকেটার মদ্যপান করছেন। এ বিষয়ে রব কি বলেন, “পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড় লাঞ্চে বসে আছে, দু’একজন পানীয় নিচ্ছে—এই ছবি দেখেই পুরো বিষয়টা বোঝা যায় না। কিন্তু যদি সত্যিই সবাই সারাক্ষণ অতিরিক্ত মদ্যপানে জড়িয়ে থাকে, তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কোনো ‘ড্রিংকিং কালচার’-এর পক্ষে নই।”

এর আগেও নিউজিল্যান্ড সফরে সীমিত ওভারের সিরিজ চলাকালে ম্যাচের আগের রাতে সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও ব্যাটার জ্যাকব বেটেলের মদ্যপানের অভিযোগ উঠেছিল, যা খতিয়ে দেখেছিলেন রব কি। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওটা আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তার পর্যায়ে ছিল না, তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার মতো বিষয় ছিল। গত চার বছরে এমন ঘটনা খুব একটা ঘটেনি। আমাদের স্পষ্ট প্রক্রিয়া আছে—কারও আচরণ সীমা ছাড়ালে কী করতে হবে। এটা আসলে সামনে কী আসছে, তার একটা সতর্ক সংকেত ছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ডিনারের সঙ্গে এক গ্লাস ওয়াইন খাওয়ার বিপক্ষে নই। কিন্তু এর বেশি হলে সেটা আমার কাছে অযৌক্তিক।”

নুসায় কিছু খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অ্যাশেজের মাঝখানে এই বিরতির সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রব কি। তার যুক্তি, হ্যারি ব্রুক, জ্যাকব বেটেল, বেন ডাকেট, জোফরা আর্চারসহ কয়েকজন ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফর এবং সামনে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় বাড়ির বাইরে থাকবেন।

“হ্যারি ব্রুক এই পুরো শীতে মাত্র ছয় দিন বাড়িতে থাকতে পারবে,” বলেন কি। “আমাদের এমন সময় তৈরি করতে হবে, যখন খেলোয়াড়রা ক্রিকেট থেকে একটু দূরে যেতে পারে। তারা তো বাড়িতে গিয়েও সেটা পারবে না।”

তিনি বলেন, “এখন এমন একটা সময়ে আমরা বেঁচে আছি, যখন ক্রিকেট এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফোন খুললেই ইনস্টাগ্রামে ক্রিকেটের খবর আসে। খেলোয়াড়রা হয়তো না দেখার চেষ্টা করে, কিন্তু বাস্তবে দেখে। বিশেষ করে অ্যাশেজের মতো সিরিজে চাপ আর নজরদারি থেকে পালানোর সুযোগ নেই। তাই মাঝেমধ্যে সবকিছু ভুলে সাধারণ মানুষের মতো কিছু সময় কাটানো মানসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুন