
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা -৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শোভাযাত্রা চলাকালে কর্মীরা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। একইসঙ্গে জামায়াতের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেন কর্মীরা।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয় এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, প্রায় পাঁচ হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে তারা এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক বিশাল শোডাউন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিতভাবে অংশ নেন। তাদের সবার হাতেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল। এ সময় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ একটি ছাদখোলা গাড়ি থেকে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
শোভাযাত্রা শেষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে দুর্নীতি, অবিচার ও স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করতে হলে কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সমাজ গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। জনগণের কল্যাণে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমাদের রাজনীতি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হানাহানি বাদ দিয়ে সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আগামী দিনের ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। এজন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানাই।”
তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে কুমিল্লা সদর-সদর দক্ষিণ এলাকায় রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার করব। স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখা এবং মাদক ও সন্ত্রাস দমনের ভূমিকা রাখব।”









