
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সব অফিস ও প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ ঘোষণা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাকমুক্ত অফিস পরিচালনা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে প্রধান অতিথি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মে. শাহ আলম এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।
বুধবার সকালে সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্রমোহন রায় সম্মেলন কক্ষে ‘উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)’ এবং ‘তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)’–এর যৌথ উদ্যোগে “তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রশাসক মে. শাহ আলম বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারের ক্ষতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার কোনো সুযোগ নেই। সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি অফিস, সেবা কেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলকে ধূমপানমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তায় দ্রুত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সভায় তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি বলেন, অফিস এলাকায় ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করে।
বক্তারা জানান, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থাকে। এসব জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। তাই কর্মপরিবেশ ও সেবা গ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসসমূহকে তামাকমুক্ত এলাকা ঘোষণা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ইতোমধ্যে সফলভাবে তামাকমুক্ত অফিস ব্যবস্থা চালু করেছে। কুমিল্লায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডমিন অফিসার সাইফুল ইসলাম, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভীন হাসান, প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মোস্তফা রনি এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।










