
মেঘের ভেলায় ভেসে ভেসে যখন শরতের শান্তি এসেছিলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ের গায়ে কাশবনে দোল খেতে, ঠিক এমনই সময়ই দুই বছর আগে আমরা একসাথে পা রেখেছিলাম লাল মাটির এই ক্যাম্পাসে। আমরা সবাই সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আত্মীয়তা, ধর্ম, রীতিনীতি ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনা করতে ভর্তি হই নৃবিজ্ঞান বিভাগে। আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে একত্রিত হয়েছি ফলে কেউ কাউকে চিনতাম না। ধীর ধীরে সবাই পরিচিত হলাম, সেইসাথে ঘুচে গেলো দূরত্ব, সংকোচ এবং ভয়।
হঠাৎ করে দেখতে দেখতে কেটে গেল দু’টি বছর। গত দুই বছরে আমরা শুধু সহপাঠী থেকে বন্ধু হইনি, বরং একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছি। মনে পড়ে প্রথম দিনের নার্ভাসনেস, প্রথম প্রেজেন্টেশনের ভয়, ক্যাফেটেরিয়ায় নিরন্তর আড্ডা, ক্লাস টেস্টের টেনশন, হঠাৎ একসাথে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের সেতুবন্ধন শক্ত করেছে। কখনও ঠাট্টা, কখনও ক্লাসের শেষ বেঞ্চে কিংবা ঝুপড়িতে আড্ডা, শহিদ মিনারে গানের আসর, আর কখনও নিঃশব্দে একসাথে কাটানো সময়; সবই আমাদের যাত্রাকে করেছে স্মৃতিময়।
এই পুরোনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতেই গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ আমরা সবাই মিলে আয়োজন করি বন্ধন উৎসব ২.০। বন্ধন উৎসব আমাদের সেই যাত্রারই রঙিন উদযাপন। এটি কেবল অতীতকে মনে করানো নয়, বরং আগামীর আরও অনেক সুন্দর মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি দেয়। বন্ধন উৎসব ২.০ তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের একসাথে কাটানো পথচলার স্মৃতি, বন্ধনের শক্তি, এবং আগামী দিনের আরও সুন্দর যাত্রার সূচনা।
দুপুরের হালকা রোদ আর হাওয়ার মৃদু ছোঁয়ায়,আমাদের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল চারটায় বিভাগের শিক্ষক সহপাঠীদের সঙ্গে কেক কেটে। এই মুহূর্তটাই যেন দুই বছরের পথচলার আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলেছিলো। পরে সন্ধ্যা ছ’টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিল, হাসি-আনন্দে মাতোয়ারা হয় শিক্ষার্থীরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য, গান, হাস্যরসাত্মক ব্যঞ্জনা, কবিতা আবৃত্তি ছিল। প্রতিটি সেগমেন্টে আমাদের সহপাঠীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের রঙিন মুহূর্ত যোগ করার জন্য আমরা আমন্ত্রণ জানাই ক্যাম্পাস আনপ্লাগডকে, যারা সুন্দর গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করেছে।
সে দিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত শুধু বিনোদন নয়, বরং বন্ধুত্বের উষ্ণতা, স্মৃতি ভাগাভাগির আনন্দ এবং একসাথে কাটানো সময়ের প্রতীক। প্রতিটি হাসি, প্রশংসা, মঞ্চের ছোট ছোট মুহূর্ত সবই আমাদের দুই বছরের পথচলার স্মৃতিকে জীবন্ত করেছে।
লেখক: শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।










