রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলের ৫ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Gas extraction from well number 5 of Srikail in Muradnagar, Comilla has begun, 8 million cubic feet of gas will be produced daily
কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলের ৫ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস/ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে ৫ নম্বর কূপ উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই কূপ থেকে এখন প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এর ফলে মুরাদনগরের শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের পাঁচটি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন মোট ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

শনিবার উপজেলার শ্রীকাইল মখলিসপুর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কূপের উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কূপটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়। তবে নানা জটিলতায় এটি চালু করার উদ্যোগ থমকে ছিল। কূপটি থেকে আগামী ১০ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কূপটিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে আগের সরকার দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেই দেশের জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হয়। তাই সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়ে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা সাড়ে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। সরকার নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকেই সেই চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র কূপ-৫ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল বাতিন জানান, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা সম্পন্ন হয়। শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই কূপে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) রফিকুল ইসলাম, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুল হক এবং প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন