
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন আতিকুল আলম শাওন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে এক অভাবনীয় বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। তাঁর এই জয়ে পুরো চান্দিনা উপজেলা জুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুমিল্লা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন (কলস) ৪২ হাজার ৮৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯০ হাজার ৮১৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। সাধারণ ভোটারদের মতে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির জয় নয়, বরং এটি চান্দিনার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার জয়। রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছ ইমেজ, সততা এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার কারণে তিনি অল্প দিনেই তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়েছেন।
বিজয় পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন বলেন, এই জয় মূলত চান্দিনাবাসীর ভালোবাসার প্রতিফলন। তিনি জনগণের দেওয়া এই পবিত্র আমানতের মর্যাদা রক্ষায় আমৃত্যু কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে তিনি একটি আধুনিক, সন্ত্রাসমুক্ত এবং উন্নত চান্দিনা গড়ে তুলতে চান যেখানে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই হবে প্রধান।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই চান্দিনা পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। মিষ্টি বিতরণ, বিজয় মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে একজন তরুণ ও শিক্ষিত প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠাতে পেরে সাধারণ ভোটাররা অত্যন্ত আনন্দিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আতিকুল আলম শাওনের এই জয় আগামী দিনে চান্দিনার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এক শক্তিশালী মাইলফলক হয়ে থাকবে।








