মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই, ২৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Two houses reduced to ashes in a massive fire in Chandina, losses estimated at Tk 25 lakh.
চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই, ২৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

কুমিল্লার চান্দিনায় অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কুদুটি বড়বাড়ি এলাকায় গাজী মেরাজ হাসান সিয়ামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে সিয়ামের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আগুনে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, আইএলটিএসের সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের প্রাথমিক ধারণা।

গাজী মেরাজ হাসান সিয়াম বলেন, ‘আমি তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। পরে আমার বোন ফোন করে বাড়িতে আগুন লাগার কথা জানায়। দ্রুত বাড়িতে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জরুরি কাগজপত্র ও আসবাবপত্র কিছুই বের করতে পারিনি। বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমি আইএলটিএস সম্পন্ন করেছি। সেই সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী গিয়াস উদ্দিন কানন বলেন, ‘হঠাৎ আমরা আগুন দেখতে পাই। চিৎকার ও শোরগোল শুনে স্থানীয়রা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই সিয়ামের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়।’

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘ফোনে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। মাঝপথে যাওয়ার পর আবার ফোনে জানতে পারি, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আমাদের যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে আমরা আর ঘটনাস্থলে যাইনি।’

তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

আরও পড়ুন