
কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পুনরায় কাজে ফেরার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নাসা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুইপাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিল থেকে নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ নাসা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে উৎপাদন কমাতে থাকে। পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বহু শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থেকে যায়। বারবার সময় নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ একটি নতুন নোটিশ প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। কারণ ওই নোটিশে বকেয়া পরিশোধ নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না এবং নির্দিষ্ট কোনো তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, তারা হয় কাজে ফিরে যেতে চান, না হলে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধই তাদের একমাত্র দাবি।
শ্রমিক তানজিলা আক্তার বলেন, “আমরারে বেতন দিতে কন, পোলা-মাইয়া না খাইয়া আছে। নাসা গ্রুপের মালিক আসুক, সমাধান করুক। বেপজার লোকেরা শুধু মিথ্যা সান্ত্বনা দেয়।”
আরেক শ্রমিক জুয়েল রানা বলেন, “ঘর ভাড়া দিতে পারছি না। অনেক দিন চুলায় আগুন জ্বলে না। পাওনা ছাড়া ঘরে ফিরব না।”
কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করছেন। কারখানা ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান করে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাসা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেজর আব্দুল হাফিজ শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোম্পানি বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তবুও শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তাফা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ছেড়ে শহরে চলে যায়।’









