
কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই কন্যাসন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলেই তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।
নিহত নারীর নাম সানজিদা আক্তার। তিনি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ১৬ নম্বর মেহেরপুর ইউনিয়নের বিহার মন্ডল গ্রামের মৃত শাহজাহান ও সাহিনা বেগমের মেয়ে।
এ ঘটনায় কুমিল্লার বুড়িচং থানায় সানজিদার মা বাদী হয়ে স্বামী মোঃ কাউসার আহমেদ সোহেলকে প্রধান আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে সানজিদার বিয়ে হয় বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাচারীতলা এলাকার হাজী আব্দুল হকের ছেলের সঙ্গে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান, যাদের বয়স বর্তমানে ৭ বছর ও ৩ বছর।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সানজিদাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচার-আচারও অনুষ্ঠিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দুপুরে সানজিদার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই দিনই নিজের ঘরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সানজিদা।
পরে তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।
সানজিদার পরিবার অভিযোগ করে জানায়, “আমাদের মেয়ে বিয়ের পর একদিনও শান্তিতে সংসার করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”









