রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লায় জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে বেড়েছে অপরাধ, নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Crime in Comilla rose in August compared to July, strict directives issued to bring the situation under control.
কুমিল্লায় জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে বেড়েছে অপরাধ, নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। বৃহত্তর এ জেলায় চুরি, ডাকাতি, খুন, নারী নির্যাতন, ছিনতাই ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয় নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও অপরাধ প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন চিত্র উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে অধিকাংশ অপরাধের হার বেড়েছে। জুলাইয়ে খুনের মামলা ছিল ১০টি, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। একইভাবে চুরির মামলা ৩১টি থেকে বেড়ে ৩৫টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাদকসংক্রান্ত মামলা। জুলাইয়ে মাদক মামলা ছিল ২১১টি, আগস্টে তা বেড়ে ২৮১টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে এবং অপমৃত্যুর মামলা ৪৭টি থেকে বেড়ে ৬১টিতে পৌঁছেছে।

তবে একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং দস্যুতার মতো কয়েকটি অপরাধের হার কিছুটা কমেছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। লোডশেডিংয়ের সুযোগে ট্রান্সফরমার চুরি, রেলস্টেশনে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়া বাজারে পণ্যের মূল্যতালিকা নিশ্চিত করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালালেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ১০ বিজিবির অধিনায়ক মীর আলী এজাজ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফাসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন