বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬

কুমিল্লায় ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Awareness meeting with parents of children with clubfoot in Comilla
কুমিল্লায় ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

কুমিল্লায় ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অভিভাবকদের নিয়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে নগরীর অর্ক কেয়ার সেন্টারের সভাকক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় এই ‘প্যারেন্টস গ্রুপ মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে এবং মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় প্রধান ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড পারপাস-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক। কারিগরি সহযোগিতায় ছিলেন অর্ক কেয়ার সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. তৌহিদুল ইসলাম।

সভায় ১০ জন ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুর মোট ২০ জন অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ ছিলেন। আলোচনা সভায় শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যাতায়াত সমস্যা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মতো নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।

ফ্যাসিলিটেটর সুমিত বণিক বলেন, “ক্লাবফুট চিকিৎসায় ‘পনসেটি মেথড’ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত, নিরাপদ ও কার্যকর একটি পদ্ধতি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে আক্রান্ত শিশুরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তারা অন্য যেকোনো শিশুর মতো হাঁটতে, দৌড়াতে ও স্কুলে যেতে সক্ষম হয়। তাই অভিভাবকদের হতাশ না হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই চিকিৎসায় চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাবা-মায়েরা।”

পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ক্লাবফুট চিকিৎসার দীর্ঘ যাত্রায় পরিবারের ভালোবাসা ও যত্নই সবচেয়ে বড় ওষুধ। প্লাস্টার খোলার পর নিয়মিত ব্যায়াম এবং ব্রেস বা বিশেষ জুতা ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অবহেলা শিশুর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”

সভায় পনসেটি মেথডের বিভিন্ন ধাপ অভিভাবকদের সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দিলে শিশুর পায়ের পাতা পুনরায় বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়। একইসঙ্গে প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করা হয়।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিভাবকরা জানান, সমাজে এখনো ক্লাবফুট নিয়ে নানা কুসংস্কার ও ভুল ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের অনেক সময় অযথা দোষারোপ ও কটু কথার শিকার হতে হয়। তারা সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ইউনাইটেড পারপাস-এর চলমান সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ক্লাবফুট সমস্যার সমাধান, সঠিক চিকিৎসার প্রসার এবং জনসচেতনতা তৈরিতে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন