
কুমিল্লায় ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অভিভাবকদের নিয়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর অর্ক কেয়ার সেন্টার সভা কক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় এই ‘প্যারেন্টস গ্রুপ মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে এবং মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় প্রধান ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড পারপাস-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক। সভার কারিগরি সহযোগিতায় ছিলেন অর্ক কেয়ার সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. তৌহিদুল ইসলাম।
সভায় ১২ জন ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুর মোট ২৩ জন অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৭ জন নারী এবং ৬ জন পুরুষ ছিলেন। সেশনে শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যাতায়াত সমস্যা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মতো চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।
ফ্যাসিলিটেটর সুমিত বণিক অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ নয়, বরং সঠিক সময়ে পনসেটি মেথডে চিকিৎসা শুরু করলে এই শিশুরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক মানুষের মতো হাঁটতে ও কাজ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদের ধৈর্য, নিয়মিত ফলোআপ এবং ব্রেসিং বা বিশেষ জুতা ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।”
সভায় পনসেটি মেথড বা ক্লাবফুট চিকিৎসার ধাপগুলো অভিভাবকদের সহজভাবে বুঝিয়ে বলা হয়। অনেক সময় চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দিলে শিশুর পায়ের পাতা পুনরায় বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে—এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। চিকিৎসা নিয়ে অভিভাবকদের মনে থাকা বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করতে ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব পরিচালিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিভাবকরা আক্ষেপ করে জানান, ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের এখনো অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অপবাদ ও কটূক্তি শুনতে হয়। তারা এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর জোর দেন এবং কুসংস্কারমুক্ত থেকে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে ইউনাইটেড পারপাস-এর পক্ষ থেকে চলমান সহযোগিতা ও কার্যক্রমের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ক্লাবফুট নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।







