
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লাকে একটি আধুনিক নগরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলার হৃৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ আসনের সার্বিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মো. মনিরুল হক চৌধুরী বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
মনিরুল হক : আমার নির্বাচনি এলাকাকে দুই ভাগে ভাগ করে আমার উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছি। প্রথমত: কুমিল্লা সদর উপজেলা ও কুমিল্লা মহানগরকে কেন্দ্র করে। অন্যটি সদর দক্ষিণ উপজেলার উন্নয়নকে ঘিরে।
আমি কুমিল্লাকে একটি আধুনিক মেট্রোপলিটন নগরীতে রূপান্তর করতে চাই।
প্রস্তাবিত মেট্রোপলিটন নগরীর সীমানা উত্তরে পাঁচথুবী ও আমড়াতলী ইউনিয়ন পর্যন্ত, পশ্চিমে নাজিরা বাজার, পূর্বে সীমান্ত বিবির বাজার এবং দক্ষিণে বাগমারা বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই এলাকার ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেট্রোপলিটন নগরী গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে নগরীর পয়োনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে মেট্রোপলিটন প্রশাসন গঠন করা হবে। নগরীর সড়ক ব্যবস্থায় সার্কুলার পরিবহন চালু করে পরিকল্পিত ও সীমিত যানবাহনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর জীবন উপহার দেওয়াই আমার লক্ষ্য।
কুমিল্লার উন্নয়ন নিয়ে আমার একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা নিয়ে ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছি। এখানে কুমিল্লাকে ঘিরে আমার ভাবনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মনিরুল হক : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনের নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার কর্মী-সমর্থকরা কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকায় প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে সব পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে।
জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মনিরুল হক : আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই।
আমার বিশ্বাস সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে।
এই আসনের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)র ওবায়দুল কবির মোহন (তারা মার্কা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (হাতপাখা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর মো. আমির হোসেন ফরায়েজী (ছড়ি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কামরুন্নাহার সাথী (মই)
উল্লেখ্য, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে কুমিল্লা ৬ আসন গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৫ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৭ জন।










