বুধবার ৮ এপ্রিল, ২০২৬

কিছু দুষ্ট লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে: চাঁদপুরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

কিছু দুষ্ট লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, নেট ফ্যাক্টরিগুলোকে শুধুমাত্র বৈধ জাল উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হলেও কিছু দুষ্ট লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে হাজার কেজি কারেন্ট জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরে এই কারেন্ট জালের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগে এতটা ছিল না। তবে সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিগগিরই এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন তিন নদীর মোহনায় জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আশির দশকের আগে দেশে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হতো, তার প্রায় ২০ শতাংশই ছিল ইলিশ। কিন্তু পরবর্তীতে জাটকা নিধনসহ নানা কারণে উৎপাদন কমে দুই লাখ টনে নেমে আসে। এরপর জাটকা সংরক্ষণ এবং গবেষণামূলক উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ইলিশ উৎপাদন পাঁচ লাখ টনে পৌঁছেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সবাই সচেতন হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার জেলেদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। আগে শুধু চাল দেওয়া হলেও এখন চালের পাশাপাশি ডালসহ অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাটকা ধরা বন্ধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নদী ও সাগরে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের মাছ ধরতে দেওয়া হবে না। তবে এই সময়ে তারা যেন বিকল্প কোনো কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে। কারণ অধিকাংশ জেলে নদী ও সাগর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বসবাস করে এবং তাদের জীবিকা মূলত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি আরও বলেন, নদী দূষণ দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যেকোনো মূল্যে নদী দূষণ প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন