শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইলিশ উৎপাদনে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

মাছ ধরা/ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর জেলার পদ্মা নদী ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় আসন্ন মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে দুই মাস নদীতে মাছ ধরতে পারবেন না।

কর্মবিরতিতে থাকা জেলেদের সহায়তায় ৩৯ হাজার ৪০০ জনকে ভিজিএফের আওতায় চাল দেওয়া হচ্ছে। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১২০ কেজি চাল পাবেন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া জেলে পল্লীর জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও নৌকা ডাঙায় তুলে রাখেন। তবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলে আক্কাছ মাঝি জানান, মাছ ধরাই তাদের একমাত্র জীবিকা। বরাদ্দকৃত চাল ছাড়াও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সন্তানদের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে তারা বিপাকে পড়েন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স যৌথভাবে কাজ করবে। আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করলে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নৌ পুলিশ টহল জোরদার করবে। নৌ সীমানার মধ্যে কেউ আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। জাতীয় স্বার্থে জেলেদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমানের মতে, জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে, যার সুফল জেলে ও ভোক্তা—দুই পক্ষই পাবে।

আরও পড়ুন