শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে নোবিপ্রবিতে বৈষম্যের অভিযোগ

মো: নাঈমুর রহমান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Noakhali Science and Technology University
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/ছবি: প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের উদ্যোগে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হল পৃথক নোটিশে আগামী ১ মার্চ ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছে। তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, বছরের বিশেষ দিনগুলোতে আবাসিক-অনাবাসিক বিভাজন শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের উদাসীনতার ইঙ্গিত দেয়। তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগে আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়; সে তুলনায় নোবিপ্রবির এ উদ্যোগ আংশিক ও হতাশাজনক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আনুমানিক দুই হাজার পাঁচশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাকি প্রায় ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনাবাসিক হিসেবে পড়াশোনা করছেন। ফলে হলভিত্তিক ইফতার আয়োজনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবাসিক হলের শিক্ষার্থী মাহমুদ ফাহিম মুনতাসির বলেন, “প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে ৩ হাজার শিক্ষার্থী কোনোরকমে আবাসনের সুবিধা পায়। অর্থাৎ বাকি ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এইটুকুও আত্মতৃপ্তি নেই যে রমাদানের ৩০টি সিয়ামের মাঝে অন্তত একদিন ইফতারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সবার জন্য আয়োজন করেছে । এটা আমাদের সবার জন্যই লজ্জার।” তিনি জানান, একজন আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ১ মার্চে আব্দুল মালেক হলের ইফতার মাহফিল বয়কট করেছেন।

অনাবাসিক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক অমি বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে দেখে আসছি, ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেবল হলভিত্তিক আয়োজন করে থাকে, যা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের ভিত্তি তৈরি করে। আমরা এই বৈষম্য আর দেখতে চাই না। প্রশাসনকে বলব, অনতিবিলম্বে আবাসিক-অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত এক ফেসবুক পোস্টে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আবাসিককেন্দ্রিক চিন্তা না করে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও এ ধরনের আয়োজনের ব্যবস্থা করা উচিত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, প্রশাসন আন্তরিক হলে এখনো আবাসিক-অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, “যদি তা নিশ্চিত না হয়, তবে ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সম্মানে আবাসিক শিক্ষার্থীরাও এই বৈষম্যমূলক কর্মসূচি বয়কট করার বিষয়ে ভাবতে পারে- এমন নৈতিক অবস্থান আমরা প্রত্যাশা করি। ইফতারের মতো মানবিক আয়োজন থেকে সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে নোবিপ্রবি দেশব্যাপী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, “আমরা সকল আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করার মতো ফান্ড নেই। আমাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব না থাকলেও সীমাবদ্ধতার কারণে পারছি না।”

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাদানের ক্ষেত্র নয়; এটি সাম্য, সহমর্মিতা ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই ভবিষ্যতে সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে এ ধরনের আয়োজন করা হলে তা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আরও পড়ুন