
রোজার দিনে অনেকেরই ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকে এটিকে রোজার স্বাভাবিক ক্লান্তি মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা।
মানুষের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এসব ব্যাকটেরিয়া শুধু খাবার হজমে সাহায্য করে না, শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে?
সারা দিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে যখন একসাথে বেশি ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাওয়া হয়, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে। দ্রুত খাবার খাওয়ার কারণে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।
পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে পর্যাপ্ত শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। তাই পেট ভরে খেলেও অনেক সময় দুর্বলতা অনুভূত হয়।
রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে?
না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য এক ধরনের ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।
তবে ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দিতে পারে।
সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায়
১। ধীরগতিতে শুরু : খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না।
২। হালকা খাবার : শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন : দই বা এ ধরনের খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
৪। সাহরিতে সচেতনতা : সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া : খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়।
রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।









