
দেশের অনেক জায়গাতেই লাইনের গ্যাস ঠিকভাবে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডারের দামও ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রান্নার বিকল্প হিসেবে অনেকেই এখন ইন্ডাকশনসহ ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
তবে সমস্যা হচ্ছে, মাস শেষে বিদ্যুতের বিল দেখে অনেকেরই কপালে ভাঁজ পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই ইন্ডাকশন চুলায় বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সঠিক বাসনের ব্যবহার
ইন্ডাকশন মূলত তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে কাজ করে। তাই রান্নার জন্য সবসময় কাস্ট আয়রন বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা উচিত। বাসনের তলা যদি অসমান বা বাঁকা হয়, তাহলে শক্তি সঠিকভাবে আদান-প্রদান হয় না। ফলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে।
সব সময় হাই-পাওয়ারে রান্না নয়
ইন্ডাকশন খুব দ্রুত পানি গরম করতে পারে। কিন্তু তাই বলে পুরো রান্না ‘ফুল পাওয়ার’-এ করার প্রয়োজন নেই। পানি ফুটে গেলে বা কড়াই গরম হয়ে গেলে পাওয়ার কমিয়ে দিন। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা সেট করে রান্না করলে বিদ্যুতের অপচয় কমে।
ঢেকে রান্না করা
রান্নার সময় কড়াই বা হাঁড়ি ঢেকে রাখলে তাপ বাইরে বের হতে পারে না। এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং কম শক্তি লাগে। খোলা পাত্রে রান্না করলে তাপ নষ্ট হয়, ফলে ইন্ডাকশনকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখা
চাল, ডাল বা অন্যান্য শস্য রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দানাগুলো নরম হয়ে যায়। এতে ইন্ডাকশনে বসানোর পর দ্রুত রান্না সম্পন্ন হয়। কম সময় ব্যবহার মানেই কম বিদ্যুৎ খরচ।
কাচের উপরিভাগ পরিষ্কার রাখা
ইন্ডাকশনের গ্লাস-সেরামিক উপরিভাগ সব সময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যদি সেখানে ময়লা বা পোড়া খাবারের স্তর থাকে, তাহলে বাসনের তলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ব্যাহত হয়। এতে চৌম্বকীয় শক্তি সঠিকভাবে স্থানান্তরিত হয় না এবং বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে।
সময়ের আগেই সুইচ বন্ধ করা
ইন্ডাকশন বন্ধ করার পরও বাসনের তলায় কিছু তাপ থেকে যায়। তাই রান্না পুরোপুরি শেষ হওয়ার ২-৩ মিনিট আগে চুলা বন্ধ করে দিলে ওই অবশিষ্ট তাপেই রান্না শেষ হয়ে যায়। এতে প্রতিদিনই কিছুটা করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।









