বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬

ইতেকাফ অবস্থায় কোন কাজগুলো করলে ভেঙে যাবে? জেনে নিন

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

প্রতীকি ছবি/সংগৃহীত

আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন প্রকার। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া। অর্থাৎ কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে অন্তত একজন ব্যক্তি ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে এই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ ইতিকাফ না করলে পুরো মহল্লাবাসী গোনাহগার হবে।

ইতিকাফ পালনকালে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কাজ করলে ইতিকাফ ভেঙে যায়। নিচে সেসব বিষয় তুলে ধরা হলো—

১. স্ত্রী-সহবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। রমজানে দিনের বেলায় রোজা অবস্থায় সহবাস হারাম হলেও রাতে তা বৈধ। কিন্তু ইতিকাফের ক্ষেত্রে রাত-দিন উভয় সময়েই সহবাস নিষিদ্ধ।

ইতিকাফরত ব্যক্তি সহবাস করলে তার ইতিকাফ ভেঙে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না।” (কুরআনুল কারিম, সূরা বাকারা: ১৮৭)

২. রোজা ভেঙে গেলে ইতিকাফও ভেঙে যাবে

ইতিকাফকালে রোজা রাখা জরুরি। কেউ যদি কোনো কারণে রোজা ভেঙে ফেলে বা রোজা ভেঙে যায়, তাহলে তার ইতিকাফও ভেঙে যাবে।

যেমন—

  • অসুস্থতার কারণে রোজা ভাঙা

  • ইচ্ছাকৃত পানাহার

  • সহবাস

  • জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বীর্যস্খলন

এসব কারণে রোজা ভেঙে গেলে ইতিকাফও বাতিল হয়ে যাবে।  (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক : ৪/৩৫৪, হিদায়া : ১/২২৯, ফাতাওয়া সিরাজিয়া : পৃ. ৩১, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ২/৪১০-৪১৩, আলবাহরুল রায়েক : ২/২৯৯, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৪২)

৩. প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না

একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।

তবে যেসব কারণে বের হওয়া বৈধ—

  • অজু করা

  • ফরজ গোসল

  • প্রাকৃতিক প্রয়োজন

কিন্তু রোগী দেখতে যাওয়া, জানাজার নামাজ আদায়, অপ্রয়োজনীয় গোসল, বেচাকেনা বা মোবাইলে কথা বলার মতো কাজে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে (আবু দাউদ: ২৪৭৩)।

নারীদের ক্ষেত্রে:

ইতিকাফ অবস্থায় নারীদের মাসিক (পিরিয়ড) শুরু হলে তাদের ইতিকাফ ভেঙে যাবে।

পরে এক দিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। কাজা করার নিয়ম হলো—

  • রমজান মাসের পর কোনো একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে।

  • পরদিন রোজা রাখতে হবে।

  • সেদিন সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে।

এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না।

তবে কারও যদি রমজানের শেষ দশকে ঋতুস্রাব হওয়ার নিয়ম থাকে, তাহলে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নফল ইতিকাফ করতে পারবেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২০৭, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)

আরও পড়ুন