
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টটি স্মরণীয় এক জয়েই রাঙাল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের কড়া প্রতিরোধ সত্ত্বেও হাসান মুরাদের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ২১৭ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের ফলে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা।
পঞ্চম দিনের শুরু ও তাইজুলের আঘাত আয়ারল্যান্ড আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে। দিনের শুরুতেই আইরিশ শিবিরে আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম, ফিরিয়ে দেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে। এরপর জর্ডান নিলের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন কার্টিস ক্যাম্ফার। তবে এই জুটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০ রান করা জর্ডান নিলকে সাজঘরে পাঠান তিনি।
ক্যাম্ফারের একলব্য লড়াই ও সেশন বর্ধিতকরণ একপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও অপরপ্রান্তে আয়ারল্যান্ডের ভরসার প্রতীক হয়ে অবিচল ছিলেন কার্টিস ক্যাম্ফার। টাইগার বোলারদের সামলে দলের সংগ্রহ বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিলের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটির পর গাভিন হোয়িকে নিয়ে লাঞ্চের আগে আরও ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ক্যাম্ফার।
বাংলাদেশ দলের জয়ের জন্য মাত্র ২ উইকেট প্রয়োজন থাকায় প্রথম সেশনের খেলা ২০ মিনিট বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। ক্যাম্ফার ও হোয়ির দৃঢ়তায় লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট তুলতে পারেননি তাইজুল-ইবাদতরা। ফলে জয় কিছুটা বিলম্বিত হয়।
মধ্যাহ্নবিরতির পর মুরাদ ম্যাজিক মধ্যাহ্নবিরতির পরও টাইগার বোলারদের বেশ ভুগিয়েছে ক্যাম্ফার-হোয়ি জুটি। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৫৪ রানের প্রতিরোধ। অবশেষে দীর্ঘ এই জুটি ভাঙতে সক্ষম হন হাসান মুরাদ। দলীয় ২৯১ রানে মুরাদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ১০৪ বলে ৩৭ রান করা গাভিন হোয়ি।
ঠিক পরের বলেই আইরিশদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মুরাদ। শেষ ব্যাটার ম্যাথু হাম্ফ্রিসকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তবে আয়ারল্যান্ডের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যাওয়া কার্টিস ক্যাম্ফার শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই থেকে যান। ২৫৯ বল খেলে ৭১ রানের ম্যারাথন ইনিংস উপহার দেন তিনি।
ম্যাচ পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন হাসান মুরাদ ও তাইজুল ইসলাম, দুজনেই নিয়েছেন ৪টি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২১৭ রানের বিশাল জয়ে মুশফিকের মাইলফলক ছোঁয়া ম্যাচ এবং সিরিজ জয়—উভয়ই নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।










