মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

‘আমার বাচ্চাসহ বউ পুড়ে গেছে বের হয়ে আর কী করব’

রাইজিং ডেস্ক

My wife and children are burnt, what else can I do
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেনে আগুন লাগার সময় জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বউ-বাচ্চাসহ মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি। এমনি একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। বাইরে থেকে কিছু লোক মরিয়া হয়ে তাঁকে বের করার চেষ্টা চালান। সবই ব্যর্থ। জ্বলন্ত ট্রেনের আগুন গ্রাস করে তাঁকে।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন লাগার পরপরই ট্রেনের ভেতর থাকা যাত্রীদের কণ্ঠে ভেসে আসে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। তাদের গণবিদারী চিৎকারে ভারী হয়ে আসে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস। অধিকাংশ যাত্রী শেষ পর্যন্ত বেরোতে পারলেও পুড়ে অঙ্গার হন চারজন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর দৃশ্য ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।

জ্বলন্ত ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেসের ওই যাত্রীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা মাসুদ রানা বলেন, ওই লোক বলছিলেন, ‘আমার বাচ্চাসহ বউ পুড়ে গেছে ভেতরে। আমারও ৯০ শতাংশ প্রায় পুড়ে গেছে। বের হয়ে আর কী করব।’
কথা শেষ করতে না করতেই তাঁর ঘাড়ের ওপর ট্রেনের জানালা ভেঙে পড়ে। তিনি আটকে যান।মৃত্যুর আগে এসব কথা বলে যান বেনাপোল এক্সপ্রেসে ট্রেনে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া চারজনের একজন।

গোপীবাগ এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা সেই ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসি। এসে দেখি ‘চ’ বগিতে একজন লোক জানালায় আটকে আছে। আমি তাকে ধরে বের করতে চাইছিলাম। কিন্তু ওই যাত্রী বলেছিলেন আগুনে স্ত্রী-সন্তান পুড়ে গেছে। এখন বের হয়ে কী হবে। থাইকাই বা কী লাভ’।
মাসুদ রানা বলেন, ‘পুরো বগিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। গরমে ট্রেনটির কিছু ধরা যাচ্ছিল না। তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে তাকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু ঘাড়ের ওপর জানালা নামায় বের করতে পারি নাই। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভালেও ততক্ষণে মারা যান তিনি।’
আরও পড়ুন