মার্চ ১, ২০২৪ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মার্চ ১, ২০২৪ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

আবারও শতক ছুঁয়েছে পেঁয়াজের দাম, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

Onions in Bangladesh
পেঁয়াজ। ছবি: রাইজিং কুমিল্লা

আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে জেলাভেদে ১৫ থেকে ২৫ টাকা। কোথাও কোথাও শতক হাঁকিয়েছে কেজি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার ও কুমিল্লা নগরীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়– বাজারে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় কেজি দরে। পুরনো পেঁয়াজের কেজি ৯০ টাকা।, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

তবে কৃষি বিপনণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য বলা হয়েছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।

টিসিবির তথ্যমতে, সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিভিন্ন বাজারে দেশি (নতুন) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫-৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০- ১২০ টাকা কেজিতে। একসপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজ ছিল ১০০ টাকার নিচে।

এদিকে পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের দাম গত কয়েকদিনে কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রকারভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। একই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ কেজি দরে।

সরবরাহ কমের অজুহাতে দিনাজপুরের হিলিতে ফের দেশীয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি বেড়েছে ১৫ টাকা। দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে দেশীয় পেঁয়াজের। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

কৃষক ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাসদেড়েক আগে থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে তোলা হয়েছে। এর ফলে বাজারে এই জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। ফলে বাড়ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম।

এর আগে ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় নভেম্বর থেকে দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। তবে জানুয়ারির শুরুতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম অর্ধেক কমে ৮০ টাকায় নেমে আসে।

অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছিল দেশে যে পরিমাণে পেঁয়াজের মজুত রয়েছে তাতে জানুয়ারি পর্যন্ত চাহিদা পূরণ সম্ভব। কিন্তু এই ঘোষণার পরই এক লাফে পেঁয়াজের দাম আড়াই গুণ বেড়ে যায়।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত পেঁয়াজ দেশি মৌসুমি পেঁয়াজ বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ। সাধারণত শীতের শুরুতে এই পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যায় এবং শীত শেষ হওয়ার আগেই এর ফলন শেষ হয়ে যায়। ফলে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট চলছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মুড়িকাটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, এখন নতুন হালি পেঁয়াজের সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত দাম বাড়তির দিকে থাকবে।