এপ্রিল ৩, ২০২৫

বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫

৪১ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পুরস্কার পেল চান্দিনার ২০ শিশু-কিশোর

20 children and teenagers from Chandina receive bicycle award after praying in congregation for 41 days
ছবি: প্রতিনিধি

টানা ৪১ দিন মসজিদে তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে পুরস্কার পেয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ২০ জন শিশু-কিশোর। তাদের প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে একটি করে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশ সেরা মেডিকেল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আক্রাম আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়।

জানা যায়, গ্রামের শিশুরা যাতে মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়। নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর পরিচয় লাভে ও সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে বশিকপুর গ্রামের আক্রাম আলী ফাউন্ডেশন এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় শর্ত ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোরদের বশিকপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বশিকপুর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে টানা ৪১ দিন ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করা। পুরস্কার হিসেবে তাদের প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল প্রদান করা হবে।
প্রতিযোগিতায় সাড়া দিয়ে প্রথম দিকে অন্তত ১২০ জন শিশু-কিশোর নামাজ আদায় শুরু করলেও চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত ৭৯ জন শিশু-কিশোর টিকে থেকে বিজয়ী হয়েছে।প্রথম ধাপে ২০ জনকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে অন্যদের দেওয়া হবে। ঈদে পুরস্কার ও সাইকেল উপহার পেয়ে উল্লসিত শিশু-কিশোররা।পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোররা বলেন, আমরা পুরস্কারের জন্য নামাজ আদায় করিনি। আমরা নিজেদের জন্য নামাজ পড়েছি। তবে ঈদে দারুণ উপহার পেয়ে আমরা উল্লসিত। তাছাড়া সাইকেলটি পেয়ে আমাদের প্রতিদিন মাদ্রাসা যাওয়া-আসার সুবিধা হবে। আমরা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

বশিকপুর আক্রাম আলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এসএম রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, গ্রামের শিশুরা যাতে মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর পরিচয় লাভ ও সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারে সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি আমাদের একটি সাহসী উদ্যোগ ছিল। আর্থিকভাবে আমাদের একটু হিমশিম খেতে হলেও শিশুদের নামাজি করতে পেরে এবং তাদের খুশি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

আক্রাম আলী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ্ব কবির আহমেদ কালবেলাকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো কোরআনের সেই বর্ণনা অনুযায়ী বাবা-মা এমন একটি সন্তান পাবে যে সন্তান হবে চক্ষু শীতলকারী। একই সঙ্গে সে সমাজের জন্যও একজন উপকারী বন্ধু হয়ে উঠবে। বিজয়ীরা একটানা ৪১ দিন ২০৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে নামাজ আদায় করেছে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসাব রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্তে নামাজের পর শিশু-কিশোরদের নাম রেজিস্ট্রেশন ও ইমামের স্বাক্ষর সংগ্রহ বাধ্যতামূলক ছিল। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকত তখন তার গণনা বন্ধ করে দেওয়া হতো। এভাবে নিয়মিত হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ৭৯ জন বিজয়ী হয়। এর মধ্যে ২০ জনকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে।

চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন কালবেলাকে বলেন, সমাজে যখন অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, সে সময়ে কিশোররা যদি মসজিদমুখী ও চরিত্রবান হয়, তাহলে সৎ ও ভালো মানুষ যেমন তৈরি হবে, তেমনি মা-বাবাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারবেন। এমন আয়োজন আমাদের সমাজে কিশোর গ্যাং মুক্ত করবে এবং শিশু কিশোরদের নামাজের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে।