এপ্রিল ৪, ২০২৫

শুক্রবার ৪ এপ্রিল, ২০২৫

শিক্ষকদের পাঁচটি পদ শূন্য রেখে সিন্ডিকেট সভার আহ্বান ববি উপাচার্যের

ছবি: প্রতিনিধি

শিক্ষকদের পাঁচটি পদ শূন্য রেখেই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন। এতে পদগুলো শূন্য থাকায় উপাচার্য যেকোনো সিদ্ধান্ত সহজেই সিন্ডিকেটে পাস করিয়ে নিতে পারবেন বলে জানা যায়।

শুক্রবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় উপাচার্য সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করেছে বলে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম।

সিন্ডিকেটে শিক্ষকদের পদগুলোকে শূন্য রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ডিন ক্যাটাগরিতে সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানকে এবং প্রভোস্ট ক্যাটাগরিতে তাপসী রাবেয়া বসরি হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক শারমিনকে নির্বাচিত করতেই পদগুলোকে শূন্য রাখা হয়েছে।

জানা যায়, শূন্য পাঁচটি পদ হলো ডিন, প্রভোস্ট, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক। এর আগে উপাচার্য নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্বাচিত দুই শিক্ষক প্রতিনিধিকে সিন্ডিকেট থেকে বাদ দিয়েছেন।

এদিকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে শিক্ষকদের দাবি সত্ত্বেও প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেননি উপাচার্য। শিক্ষকদের মধ্য থেকে তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি উঠলে উপাচার্য এই বিষয়ে পরে ভেবে দেখবেন বলে জানান অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদেরকে।

এছাড়াও সিন্ডিকেট সভায় বাইরের কোন শিক্ষকরা সদস্য হিসেবে থাকছেন এবং সিন্ডিকেটের আলোচ্য বিষয় কি তা জানেন না সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

তারা অভিযোগ এনে বলেন, সিন্ডিকেটের এজেন্ডা দুই থেকে তিন কর্মদিবস আগে দেওয়ার রীতি থাকলেও তাদেরকে এখনো এজেন্ডা দেয়া হয়নি। কাদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট বসতে যাচ্ছে তাও জানতে চাইলে জানানো হয় নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জনের মতো শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়েয় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আইন সম্পর্কে যেহেতু সবকিছু জানেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয় নিয়েও তারা ওয়াকিবহাল এজন্য তাদেরকে বাদ রাখা হয়েছে যাতে টেবিল-টকে কেউ বেশি ভেটো দিতে না পারেন। টেবিল-টকে কেউ ভেটো না দিলে যেকোনো সিদ্ধান্ত সহজেই সিন্ডিকেটে পাশ করিয়ে নিতে পারবেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ক্যাটাগরি থেকে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সদস্য সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোস্তাকিম মিয়া বলেন, উপাচার্য প্রভোস্ট ও ডিন ক্যাটাগরিতে নিজের কাছের লোককে মনোনীত করতেই শিক্ষকদের পদগুলোকে শূন্য রেখেই সিন্ডিকেট সভা বসাতে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য সিন্ডিকেটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই সিন্ডিকেটকে শিক্ষকহীন রেখেই সভা আহ্বান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে বলেন, সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সদস্যের তালিকায় কারা আছেন জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, এটা উপাচার্য আমাদেরকে এখনো জানাননি। তিনি এসে জানাবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানি বলেন,আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এজেন্ডা যদিও চিঠির সাথেই দিয়ে দেওয়ার কথা কিন্তু এখনো দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে ফোন করা হলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।