এপ্রিল ৪, ২০২৫

শুক্রবার ৪ এপ্রিল, ২০২৫

জেসআপ মুট কোর্ট কম্পিটিশনের বাংলাদেশ রাউন্ডে নোবিপ্রবির অভাবনীয় সাফল্য

Nobiprobi's incredible success in the Bangladesh round of the Jessup Moot Court Competition
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ৬-৮ ফেব্রুয়ারী নবম জেসআপ মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) এই প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন হয়।

Jessup Moot Court Competition হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। আইন শিক্ষার্থীদের কাছে এটি মুটিংয়ের বিশ্বকাপ নামে খ্যাত। এটি ইন্টারন্যাশনাল ল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রগত বিরোধ মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) অনুরূপ পরিবেশে মামলা পরিচালনা করে।

প্রতিবছর বিশ্বের শতাধিক দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এতে অংশগ্রহণ করে, এবং জাতীয় রাউন্ড পেরিয়ে সেরা দলগুলো ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাংলাদেশ রাউন্ডের এই প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে যাওয়া সেরা চারটি দল পাবে আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ।

এবছর বাংলাদেশের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দলসহ মোট ৮টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে। প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই নোবিপ্রবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার গৌরব অর্জন করে। নোবিপ্রবি দলের সদস্যরা হলেন, ওরালিস্ট ১- সায়মা আহমেদ চৌধুরী, ওরালিস্ট ২- মাহিন চৌধুরী এবং রিসার্চার- তানভির আহমেদ। দলটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন আইন বিভাগের প্রভাষক জয়নাব বিনতে মরিয়ম কলি।

কোয়ার্টার ফাইনালে, নোবিপ্রবির দলটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়, এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাউন্ডের চ্যাম্পিয়ন হয়। এই প্রতিযোগিতায় নোবিপ্রবি ৪৪ টি দলের মধ্যে ৭ম বেস্ট টিম অ্যাওয়ার্ড ও বেস্ট নিউ কামার টিম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি) দলটির সদস্য সায়মা আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রথমবার গিয়েই আমরা যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তাতে আমরা ও আমাদের শিক্ষকরা অনেক খুশি ও গর্বিত। আরেকটি রাউন্ড পার করতে পারলে নোবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে পারতাম। সেটা নিয়ে খানিকটা আফসোস রয়ে গেলেও পুরষ্কার গ্রহণের সময়ে অডিটোরিয়াম ভর্তি সারাদেশের আইনের শিক্ষার্থীরা,শিক্ষকরা ও স্কলাররা যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অবাক বিস্ময়ে উচ্চারণ করছিলো, তখন আসলেই মনে হয়েছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু একটা করতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো গৌরবও অর্জন করতে পারবো।’