এপ্রিল ৪, ২০২৫

শুক্রবার ৪ এপ্রিল, ২০২৫

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রণোদনা পেলেন ১৩ শিক্ষক

ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাঁচটি অনুষদের মোট ১৩ শিক্ষক গবেষণা প্রণোদনা পেয়েছেন। ২০২২ সালের পহেলা জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণার জন্য তারা এ প্রণোদনা পেয়েছেন।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর কর্তৃক ‘রিসার্চ ইনসিনটিভ সিরিমনি-২০২৫’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ টি অনুষদভুক্ত ১০ টি বিভাগের ১৩ জন শিক্ষকদের হাতে এ প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৩ জন শিক্ষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মাজেদ পাটোয়ারী, গনিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো.শাহাদাৎ হোসেন প্রণোদনা পেয়েছেন। কলা ও মানবিক অনুষদে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস ; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.শহীদুল ইসলাম, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা প্রণোদনা পেয়েছেন। এছাড়াও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান প্রণোদনা পেয়েছেন। এ সময় পাঁচটি অনুষদের শিক্ষকদের কিউ ওয়ান এবং কিউ টু জার্নালের উপর ভিত্তি করে তিন জনকে চল্লিশ হাজার, পাঁচজনকে পঁয়তাল্লিশ হাজার এবং পাঁচ জনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে প্রণোদনা প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যপক ড.মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ সোলায়মান। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কোষাধ্যক্ষ ড.মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “আজকের এই দিনটার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে সব শিক্ষার ইনডেক্সে সাড়া দিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গবেষণা মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ‘বি’ ক্যাটাগরি ধরা হয় যেটা আমাদের জন্য দুঃখজনক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জ্ঞান সৃষ্টি করা। শিক্ষকরা ভালো গবেষণা করলেও জানান দিতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি হয়, গবেষণা হয় না। ব্যাপারটা এমন না শিক্ষকদের অনেক গবেষণা আছে, তবে ঠিক মত প্রকাশিত হয় না তাই আমরা অবগত না। আজকের প্রণোদনা অন্য শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করবে। ”

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র জ্ঞান বিতরণ না জ্ঞান সৃষ্টির ও জায়গা। গবেষণা করে জ্ঞান সৃষ্টি হবে। এবার যারা গবেষণা ইনসেন্টিভ পাচ্ছে, তাদের দেখে আগামী বছর অনেকে অনুপ্রাণিত হবে। শিক্ষকদের বলবো আপনারা সবাই প্রোফাইল আপডেটেইড রাখবেন।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “একটি পাবলিকেশন নতুন একটি ক্রিয়েশন। আপনাদের যোগ্যতাই আপনারা প্রণোদনা পেয়েছেন। আমি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত করে দেখলাম আমাদের শিক্ষকের তুলনাই শিক্ষার্থী দ্বিগুণ । আপনারা এত ক্লাসে নেওয়ার মাঝেও যে ‘কিউ ওয়ান’ জার্নাল প্রকাশ করতে পেরেছেন সেটা সত্যি অনুপ্রেরণার।”