আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। আধুনিক নগরায়ণ, আর্থসামাজিক অবস্থা, মানসিক চাপ, বংশগতি, অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ও মনোসামাজিক কারণে দেশে দিনদিন মানসিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ যৌথ জরিপ অনুযায়ী দেশে অন্তত ৩ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে মানসিক সমস্যায় আছেন বা মানসিক রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে বয়স্কদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ৮ ভাগ আর তরুণদের বেলায় তা ১৩ ভাগ।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে—‘‘মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, শোভাযাত্রা, গোলটেবিল বৈঠক, মিট দ্য প্রেস, আলোচনাসভা, বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও বিনা মূল্যে মানসিক চিকিৎসাসেবা প্রদান। বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার দূর করা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ ১৯৯২ সাল থেকে ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন কর্মসূচির সূচনা করে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) দিবসটি উপলক্ষে রেলি, আলোচনাসভা, লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন, বিনা মূল্যে মানসিক চিকিৎসাসেবা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এদিকে মানসিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে অবহেলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীদের জন্য রয়েছে চিকিৎসক সংকটও। দেশে প্রায় প্রতি তিন লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসক রয়েছেন। ফলে ৯১ শতাংশই চিকিৎসা বঞ্চিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপের বরাদ্দ দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবী উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান লাইট হাউস।
সোমবার রাজধানীতে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভায় মূল প্রবন্ধে লাইট হাউসের নির্বাহী প্রধান হারুন অর রশিদ জানান, করোনা মহামারির পর দেশের মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আরও বেড়েছে। তবে বাড়েনি এ রোগের চিকিৎসা বাজেটের বরাদ্দ। মাত্র দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ব্যয় হয় এ খাতে। ফলে আক্রান্ত প্রায় ৯১ শতাংশ মানুষ সেবা বঞ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানে ডা. মো. মনজুর হোসাইন বলেন, আগের থেকে দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে। তবে আমাদের দেশে মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা কম। মাত্র ২৭০ জন মনোবিজ্ঞানী রয়েছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণভাবে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর একটি জটিল, অন্যটি লঘু। লুঘু ধরনের সমস্যায় আক্রান্তদের সংখ্যাটাই বেশি। সহমর্মিতার সঙ্গে এই সমস্যার চিকিৎসা করা হলে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক নানা কারণে মানসিক অসুখ গোপন করার ফলে রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হন। ফলে দেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
এতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি আট জনে একজন মানসিক রোগী। আর ১৮ বছর বা তার ঊর্ধ্বের ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এবং ১৮ থেকে ২৯ বছরে বয়সীদের মধ্যে এ হার ১১ শতাংশ। ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ হার ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বব্যাপী ২০ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC