মে ২৪, ২০২৪

শুক্রবার ২৪ মে, ২০২৪

রণক্ষেত্র পাকিস্তান, বন্ধ ইন্টারনেট: ইমরান খানকে নেওয়া হচ্ছে রিমান্ডে!

রণক্ষেত্র পাকিস্তান, বন্ধ ইন্টারনেট: ইমরান খানকে নেওয়া হচ্ছে রিমান্ডে!
রণক্ষেত্র পাকিস্তান, বন্ধ ইন্টারনেট: ইমরান খানকে নেওয়া হচ্ছে রিমান্ডে!। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন দলের কর্মীরা। তাকে গ্রেফতারের পর থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। এনএবির একটি সূত্র মঙ্গলবার ডনকে জানিয়েছে। আজ বুধবার ইমরান খানকে আদালতে হাজির করা হবে।

সূত্রটি ডনকে বলেছে, ‘আমরা তাকে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ দিনের জন্য হেফাজতে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

দেশটির ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্স-১৯৯৯ এর নতুন সংশোধনীর অধীনে, যে কোনো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত শারীরিক রিমান্ডের সময়কাল ৯০ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়েছে।

আমরা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের রিমান্ড চাইব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কর্মী-সমর্থকেরা বিভিন্ন শহরে রাতভর বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর দফতরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই।

এদিকে, ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর পাকিস্তানজুড়ে টুইটার, ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, গ্রেফতারের পর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা গেছে। ইমরান খানের অবস্থান সম্পর্কে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) একটি সূত্র মঙ্গলবার ডনকে জানায়, তাকে ব্যুরোর রাওয়ালপিন্ডি/ইসলামাবাদ আঞ্চলিক সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে।

এছাড়া জানা যায়, লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের প্রায় সব শহরে ইমরানের দলের কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা বলতে থাকেন, নেতার গায়ে যদি কোনোভাবে হাত পড়ে, তাহলে তারা দরকার হলে জীবন দিয়ে দেবেন। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে পিটিআই কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

এছাড়াও জানা যায়, ইমরান আগে থেকে একটা ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করার পর সেটা সামাজিকমাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। সেখানে ইমরান বলেন, আপনারা যখন এই কথাগুলো শুনবেন, তখন আমাকে আটক করা হয়ে গেছে। মিথ্যা অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবিধান ভঙ্গ করা হচ্ছে।

ইমরানের দাবি, আমি আইন মেনে চলেছি এবং চলি। আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে যাতে আমি রাজনৈতিক পথে হাঁটতে না পারি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করতে পারি।

উল্লেখ্য, ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আল কাদির ট্রাস্টের জমি দখল করেছেন। এই নিয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। ইমরান সেই মামলার জামিন নেওয়ার জন্যই ইসলামাবাদ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।