মার্চ ১, ২০২৪ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
মার্চ ১, ২০২৪ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

জুন থেকে রিজার্ভ গণনা আইএমএফের শর্ত মেনে

জুন থেকে রিজার্ভ গণনা আইএমএফের শর্ত মেনে
জুন থেকে রিজার্ভ গণনা আইএমএফের শর্ত মেনে। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসাবে জুড়ে দেওয়া ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বাংলাদশ ব্যাংক। বিপিএম ৬-এর আওতায় দেশের রিজার্ভ নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে। ঋণের শর্ত পালনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ নিল প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর।

গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রণয়ণে গঠিত কমিটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

সূত্র জানায়, আসন্ন মুদ্রানীতিতে আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রিজার্ভ গণনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভের হিসাব দেখানো হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি দিন শেষে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করলে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামবে। আর এই সংখ্যা আইএমএফের সর্বনিম্ন সীমার (২২ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার) ওপরে থাকবে; যা বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করবে না।

সূত্র আরও জানায়, নতুন মুদ্রানীতিতে ডলারের একক রেট নির্ধারণ করা হবে। ইচ্ছা করলে কোনো অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন রেটে ডলার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না। তবে ডলার কেনা-বেচায় ভিন্ন রেট থাকবে। তবে কেনা অবস্থাতেই ডলারের দামের ব্যবধান ২ টাকার বেশি হবে না। এদিকে নতুন মুদ্রানীতিতে ৯ শতাংশ সুদের হারের সীমা তুলে দিয়ে সুদহারে করিডর পলিসি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি মেনে চলা হবে। সেই রেট মেনে ব্যাংকগুলো লেনদেন করবে। এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চেয়ে সুদের হার কম হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। পেছানোর আশঙ্কা নেই। তবে যদি বিলম্ব করা হয়ও তা কোনোভাবেই ২২ জুনের পর হবে না। কেননা, চলতি বছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে ওই দিনই গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে কিছু রিফর্ম (সংস্কার) নিয়ে কাজ করছি। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার একাধিক রেট একটিতে নিয়ে আসা, সুদহার বাজারমুখী করা ও রিজার্ভ হিসাব আইএমএফের বিপিএম ৬ পদ্ধতিতে করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে রিজার্ভ হিসাবে আমাদের প্রচলিত গ্রস হিসাবটিও থাকবে।’