জুন ১৬, ২০২৪

রবিবার ১৬ জুন, ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালে’ লণ্ডভণ্ড সুন্দরবন, ৩৯টি মৃত হরিণ উদ্ধার

Cyclone 'Remale' Landabhand Sundarbans, 39 dead deer rescued
ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনে মারা গেছে হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী। এখন পর্যন্ত বনের শুধু কটকা এলাকা থেকে ৩৯টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ১৭টি হরিণ উদ্ধার করার পর শুশ্রূষা করে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও বনজুড়ে তল্লাশি চলছে, তাতে মৃত হরিণের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বন বিভাগ গণমাধ্যমকে জানায়, দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা ধরে সুন্দরবনের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমাল তান্ডব চালিয়েছে। এ সময় ৭০-৮০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো বাতাস ও দমকা হাওয়ায় বনের বহু জায়গার গাছপালা ভেঙে গেছে। বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশনের কাঠের জেটি, বনরক্ষীদের ঘর, স্টেশন ফাঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ঘূর্ণিঝড়ের সময় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের মিষ্টি পানির আধার শতাধিক পুকুর লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্য প্রাণি ও বনরক্ষীদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নামের মোহসীন হোসেন বলেন, টাকার অংকে বনের ক্ষতি নিরূপন করা সম্ভব নয়। পশ্চিম বিভাগে ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার অবকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জেটি, ট্রলার, ওয়াচ টাওয়ার, স্টেশন ও স্টেশনের বিভিন্ন ঘর।

এ বিষয়ে সুন্দরবন নিয়ে গবেষণাকারী সেফ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ বা হরিণ জাতীয় বন্যপ্রাণী ৬ ঘণ্টার বেশি পানির মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশের টিকে থাকতে পারে না। ঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনের অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘ সময় জলমগ্ন ছিল। ভাটার সময়ও এবার পানি কমেনি। এতে অসংখ্য বন্যপ্রাণী ভেসে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় নুতন করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সুন্দরবনের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, সুন্দরবন  পশ্চিম ও পূর্ব বন বিভাগ মিলে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ৩৯টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ আহত হরিণকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঝড়ের পর প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের কারণে গাছপালার চেয়ে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা ধরে সুন্দরবনে ১০ থেকে ১২ ফুট জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এ সময় নদ-নদীতে ঘূর্ণি বাতাসের সঙ্গে প্রচন্ড ঢেউ ছিল। ফলে হরিণসহ সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।