এপ্রিল ১৫, ২০২৪ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এপ্রিল ১৫, ২০২৪ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

গরমের সঙ্গে লোডশেডিং বাড়ছে, কোনো সুখবর নেই

গরমের সঙ্গে লোডশেডিং বাড়ছে, কোনো সুখবর নেই
গরমের সঙ্গে লোডশেডিং বাড়ছে, কোনো সুখবর নেই। ছবি: সংগৃহীত

ডলার সংকটে তেল আমদানি স্বাভাবিক করতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গ্যাস সংকটের কারণে সক্ষমতা থাকার পরও প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে তারাও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আরও সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। গত কয়েক দিন ধরে কুমিল্লা নগরীর ও আশপাশের এলাকায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে তা আরও বাড়তে পারে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আজ কুমিল্লা ও আশপাশের উপজেলা গুলোতে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়েছে। অশোকতলার এলাকার বাসিন্দা তামিম রাইজিং কুমিল্লাকে বলেন, ‘গভীর রাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে কষ্টে আছি। একদিকে মশা, অন্যদিকে লোডশেডিং- সব মিলিয়ে একটি সংকটে আছি।’ রাজগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সূএে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেড়েছে। গতকাল রাতে ৯ টায় বিদ্যুৎ গিয়ে এসেছে রাত ৩ টায়। বিদ্যুৎ যদি খুব বেশি যাওয়া-আসা করে তবে সংকট বাড়বে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পিডিবির কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি ও অদক্ষতায় দিন দিন সংকট বাড়ছে। তিনি বলেন, পিডিবির কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনার কারণেই পায়রার মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের আগে জানানো হলে এমনটা হতো না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ঋণগ্রস্ত হয়ে তারা কোম্পানিকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এখন বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মুনাফায় থাকা বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পিডিবির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, গতকাল আনুমানিক বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪,৯০০ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল না। পিডিবির বিরুদ্ধে ওয়েবসাইটে গতানুগতিক তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, পিডিবি যতটুকু উৎপাদন করতে পারে ততটুকুই চাহিদা। প্রকৃত চাহিদা কখনই ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় না।

এদিকে, গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর রমজান ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। সে অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয়। তবে চাহিদা বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। আর এ পর্যন্ত সরকার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৬০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন সম্ভব ১৫ হাজার ৬০৪ মেগাওয়াট। পানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কারণে প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা কম। ফলে বর্ধিত চাহিদার জন্য সরকারের কাছে লোডশেডিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।