এপ্রিল ১৫, ২০২৪ ১২:১১ অপরাহ্ণ
এপ্রিল ১৫, ২০২৪ ১২:১১ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার হোমনায় তিতির পাখি পালনে স্বাবলম্বী ইকবাল

কুমিল্লার হোমনায় তিতির পাখি পালনে স্বাবলম্বী ইকবাল
কুমিল্লার হোমনায় তিতির পাখি পালনে স্বাবলম্বী ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামের যুবক ইকবাল হোসেন বাণিজ্যিকভাবে তিতির পাখি পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। এ তিতির পালন করে ঘুরেছে তার ভাগ্যের চাকাও।

মৃত্যুঝুঁকি কম থাকা ও ব্রয়লার মুরগি পালনের চেয়ে খরচ কম পড়ায় তিতির পালনে আমিষের অভাব পূরণের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে বলে মনে করেন ইকবাল হোসেন। খবর: বাসস

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, তিতির শোভাবর্ধনকারী পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিতির খাদ্য ও উৎপাদন খরচ কম। তাই তিতির পালন লাভজনক। তিতিরের মাংস ও ডিম সুস্বাদু। তিতির খুব শান্ত। তাই তিতির পালন খুব সহজ। গ্রামীণ পরিবেশেই হাঁস-মুরগির সঙ্গে পালন করা যায়।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রজাতির তিতির রয়েছে। বাংলাদেশে আছে সাধারণ তিতির ও কালো তিতির। ডিমের রঙ ঘন বাদামি, ছোট ছোট দাগ থাকে, লাটিম আকৃতির ও ওজন ৩৮-৪৪ গ্রাম। পুরুষ তিতির মাথার মুকুট স্ত্রীর চেয়ে বড়। পায়ের রঙ কালচে। পূর্ণাঙ্গ পুরুষের ওজন ১.৫-২ কেজি, স্ত্রীর ওজন ১-১.৫ কেজি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। প্রাকৃতিক খাদ্য খায় বলে খরচ কম। উন্নতমানের ঘর দরকার হয় না। ৬-৭ মাস বয়সে ডিম পাড়ে।

তিতির বছরে ১০০-১২০টি ডিম দেয়। ৫-৬ মাসে খাওয়া ও বিক্রির উপযোগী হয়। দেশি মুরগির সঙ্গে একত্রে পালন করা যায়। ডিম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে ফুটানো যায়। ডিম ফুটতে ২৭-২৮ দিন সময় লাগে। ডিম দেশি মুরগি দিয়েও ফুটানো যায়। প্রজনন মৌসুম মার্চ-অক্টোবর মাস পর্যন্ত। তিতির খোলামেলা পরিবেশে ও আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায়।

উদ্যোক্তা ইকবাল হোসেন জানান ২০২১ সালে একজোড়া পাখি এনে আর কিছু ডিম ক্রয় করে তা নিজ খামারে বাচ্চা ফুটিয়ে লালন পালন শুরু করেন। অনেকে তিতির খাওয়ার জন্য কেনেন। মাংসের স্বাদ ভালো ও শৌখিন মানুষজন পালন করে থাকেন। প্রতি জোড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তার খামারে বর্তমানে দুইশত’র বেশি তিতির পাখি রয়েছে বর্তমানে ডিমও দিচ্ছে।

উপজেলা ভেটেনারি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, মুরগির চেয়ে এর রোগবালাই কম হয়, ডিম বেশি পাড়ে, ওজন বেশি হয়, উৎপাদন খরচ কম ও দেখতে সুন্দর। এজন্য তিতির পালন করা লাভজনক। হোমনায় তিতির খামারটি উপজেলার দ্বিতীয় বড় খামার। তিতির পালন করে তরুণরা বেকারত্ব দূর করতে পারে।